২৭টি উপায় আপনার বুটিক এবং গহনা ব্যবসা প্রচার করুন

বুটিক বা গহনার / জুয়েলারি ব্যবসা শুরু করবেন? আসুন দেখেনি কি ভাবে আপনি বুটিক বা গহনা ব্যবসা প্রচার করতে পারবেন |

১) বন্ধুদের মাধ্যমে: আপনি যদি নতুন ব্যবসা শুরু করেন, আপনার পণ্য প্রচারের সবচেয়ে সহজ উপায় হল আপনার বন্ধুদের মাধ্যমে। আপনার পণ্যগুলির ফটো এবং ভিডিও তুলে আপনার বন্ধুদের কাছে পাঠিয়ে দিন যা দেখে আপনার বন্ধুরা আপনার কাছে অর্ডার দিতে পারবে । এছাড়াও, আপনার বন্ধুদের আপনার পোশাক বা গহনা পরতে বলুন এবং ফটো তুলে প্রচার করতে পারেন |


২) সহকর্মীর মাধ্যমে: অফিস-এ কাজ করলে সহকর্মীদের কাছে বিক্রি করুন | নতুন স্টাইল-এর ডিজাইন সকলের পড়তে ভালো লাগে | এবং অফিস বা অফিস-পার্টি তে পড়ার জন্যে আধুনিক ডিজাইন-এর চাহিদা আছে |

৩) পাড়ার শাড়ির দোকান : বানানো কিছু নমুনা নিয়ে পৌঁছে যান পাড়ার শাড়ির দোকানে | ওখানে দোকানের মালিকের সাথে কথা বলে জানুন কি ধরণের প্রোডাক্ট সেখানে বিক্রি করতে পারবেন | দোকানের সাথে এটাও চুক্তি করতে পারেন যে তার দোকান থেকে খদ্দের শাড়ি কিনলে আপনার প্রোডাক্ট-এর প্রচার উনি করে দেবেন – তার পরিবর্তে আপনি উনাকে লাভের অংশ দেবেন |

৪) ছোট বুটিক : ছোট বুটিক এ শাড়ি ছাড়াও আধুনিক স্টাইল-এর প্রোডাক্ট থাকে – যেমন কুর্তি , ব্লাউস, গাউন, লেহেঙ্গা, ইত্যাদি | ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে বুটিকেরা সব সময়ে নতুন ও আধুনিক ডিজাইন খোঁজে | কথা বলুন কি ভাবে আপনার বানানো প্রোডাক্ট সেখানে বিক্রি করা যাবে | গহনা হোক বা ড্রেস – দুটোর ক্ষেত্রেই নিত্যনতুন সম্ভারের চাহিদা থাকে |

বুটিক বা গহনার ব্যবসা সম্পর্কে আরও জানতে নিচের ফর্ম ভর্তি করুন :

৫) স্টেশনারি দোকান : খাতা, কলম, আঁকার সরঞ্জাম, কাগজ ইত্যাদির দোকানে ভিড় লেগেই থাকে | বাচ্চা থেকে বড় সবারই এই সকল সামগ্রীর দরকার থাকে | সেখানে আপনার প্রোডাক্ট প্রদর্শন করতে পারবেন ? কিছু নমুনা সেখানে ডিসপ্লে করুন | তার সাথে লিখে দেবেন আপনার নাম ও ফোন নম্বর |

৬) স্কুল : প্রাইমারি, নার্সারী ও নিচু ক্লাসের বাচাদের স্কুলের সামনে মা-বাবারা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন নিজের ছেলে মেয়েদের বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্যে | এক সাথে অনেকের সাথে কথা বলতে পারবেন ও নিজের প্রোডাক্ট দেখতে পারবেন |

৭) কলেজ : আজকালের ছেলে মেয়েরা নতুন ডিজাইন পড়তে ভালবাসে | অত্যাধুনিক কাজ থাকলে সবার আগে তারাই আপনার কাস্টমার হবে | এই বয়সের ছেলে মেয়েদের জন্যে আপনার কাছে প্রোডাক্ট থাকলে অবশ্যই কলেজের ছাত্রছাত্রীদের দেখান |

৮) স্থানীয় বাজার-এ ছোট দোকান দিয়ে: নিজের দোকান করতে খরচ আছে কিন্তু তার সাথে লাভের সংখ্যাও বেশি | ৫০ বর্গফুট জায়গা থাকলেই শুরু করতে পারেন |

৯) হোয়াটস্যাপ : হোয়াটস্যাপ বিসনেস একাউন্ট বানিয়ে ফেলুন – তাতে কোনো টাকা লাগে না | বিসনেস একাউন্ট-এর অনেক সুবিধে আছে – যেমন নিজের পণ্যের ছবি লাগাতে পারবেন, লোকেশন দিতে পারবেন, ওয়েবসাইট থাকলে সেটা দেখতে পারবেন | আরও অনেক সুবিধা আছে |

১০) ফেসবুক পেজ : ফেসবুক-এ একাউন্ট থাকলেই হবে না, থাকতে হবে পেজ | পেজ বানিয়ে সেখানে আপনার বানাও ড্রেস বা জুয়েলারির ছবি দিতে হবে | তারপর করতে হবে মার্কেটিং | পেজটা বিভিন্ন গ্রূপ-এ শেয়ার করুন |

১১) টুইটার : আধুনিক সোশ্যাল মিডিয়া সাইট টুইটার – এখানে অল্প শব্ধে ছবির সাথে করতে পারবেন মার্কেটিং | বেশির ভাগ সময়ে এখানে নিজের নতুন কাজের ছবি ও নতুন উদ্ভাবনী ধারণার কথা প্রচার করবেন – যা দেখে ক্রেতারা অনুপ্রাণিত হবে |

১২) meesho : প্রচার করার অ্যাপ meesho | আপনার প্রোডাক্ট এখানে লিস্ট করে অ্যাপ-এর মাধ্যমে রিসেলার পাবেন – যারা আপনার প্রোডাক্ট আরও প্রচার করবে আর সাথে বিক্রি করবে | আপনি তাদের কে লাভের একটা ভাগ দেবেন | meesho-তে শুরু করার জন্যে লাগবে GST |

১৩) লোকাল রেডিও চ্যানেল : লোকাল রেডিও চ্যানেল আছে? অল্প টাকার মধ্যেই করতে পারবেন প্রচার ও অনেক মানুষের কাছে পৌঁছে যাবেন | রেডিও চ্যানেলে-এ প্রচার করার ভালো সময়ে দুপুর ১২টা থেকে ৪টা অবধি আবার সন্ধেয় ৮টা থেকে ১১টা অবধি |

১৪) ফেসবুক গ্রূপ : ফেসবুকে এমন কিছু গ্রূপ আছে যা কেবল মহিলাদের জন্যে | সেখানে জুয়েলারি, ড্রেস, সাজার সরঞ্জাম, ইত্যাদি বহু বিষয়ে নিয়ে কথা হয় | এই সকল গ্রূপে যুক্ত হয়ে সেখানে প্রচার করতে পারেন | দেখে নেবেন গ্রূপের নিয়ম কি আছে – কোনো কোনো গ্রূপ-এ সপ্তাহের কিছু দিন বেঁধে দেওয়া থাকে যেদিন প্রচার করতে পারবেন | নিয়ম মেনে প্রচার করলে আপনার ক্রেতা সংখ্যা বাড়বে|

১৫) ফেসবুক লাইভ-এ : ফেসবুকে নতুন বৈশিষ্ট্য লাইভ ভিডিও | লাইভ ভিডিও মানে স্মার্টফোনের দ্বারা আপনি ক্যামেরার সামনে নিজের প্রোডাক্ট সকলের কাছে দেখতে পারবেন ভিডিওর মাধ্যমে | লাইভ ভিডিও তে আপনার গহনা বা শাড়ির নিখুঁত কাজ বিবরণ করতে পারবেন এবং সরাসরি ক্রেতাদের থেকে অর্ডার নিতে পারবেন |

১৬) লোকাল খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন: লোকাল খবরের কাগজে অল্প টাকাতেই বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন | স্থানীয় মানুষদের কাছে খুব সহজেই পৌঁছানের জন্যে বিজ্ঞাপন আকর্ষণীয় ও রঙিন হতে হবে | সাথে দেবেন চকচকে কিছু ছবি | তার সাথে নিজের নাম ও ফোন নম্বর দিতে ভুলবেন না |

১৭) লোকাল ক্যাবল টিভি : লোকাল ক্যাবল টিভিতে বিভিন্ন সময়ে সিনেমা চলে | সিনেমার মাঝে মাঝে বিজ্ঞাপনের নির্ধারিত সূচি থাকে | নিজের বানানো ড্রেস বা গহনার ভিডিও রেকর্ড করে সূচি অনুযায়ী প্রচার করুন | ভিডিওর নিচে অবসসই নিজের নাম ও ফোন নম্বর দেবেন |

১৮) ইউটুবে ভিডিও : আপনার স্মার্টফোন ব্যবহার করে আপনার পণ্যগুলির ভিডিও তৈরি করুন এবং ইউটিউব-এর মাধ্যমে বিশ্বকে দেখান। ভিডিওগুলি আপনার পণ্য এবং তাদের বৈশিষ্ট্যগুলি সম্পর্কে বিশদ প্রদান করে সংক্ষিপ্ত এবং আকর্ষণীয় হওয়া উচিত। আপনার ভিডিওগুলিকে একটি দুর্দান্ত শিরোনাম দিন এবং তা সোশ্যাল মিডিয়া ওয়েবসাইটে প্রচার করুন।

১৯) লিফলেট : লিফলেটের মাধ্যমে প্রচার করতে হলে আপনাকে আকর্ষণীয় কিছু ছবি দিয়ে একটা ডিজাইন বানাতে হবে – এই ডিজাইন ছাপিয়ে মানুষ হাতে হাতে পৌঁছে দিতে হবে | দুই ভাবে লিফলেট বিতরণ করতে পারেন – এক, জনাকীর্ণ স্থলে দাঁড়িয়ে মানুষের হাতে হাতে খেলাফলেট দেওয়া | দুই, সকালের খবরের কাগজের সাথে দেওয়া – এটা করার জন্যে ভোর ভোর আপনাকে পৌঁছে যেতে হবে খবর কাগজের ডিস্ট্রিবিউশন কেন্দ্রে ও অল্প কিছু টাকার বিনিময়ে ওখানেই আপনার লিফলেট খবর কাগজের সাথে প্যাক করে পাঠিয়ে দেবে বাড়ি বাড়ি |

২০) স্থানীয় মহিলা সমিতি : আপনার স্থানীয় মহিলা ক্লাবের সাথে যোগাযোগ করুন। আপনি তাদের ইভেন্টগুলি স্পনসর করতে পারেন, উপহার সরবরাহ করতে পারেন এবং আপনার পণ্য সম্পর্কে তাদের বলতে এবং সেগুলি প্রদর্শন করতে পারেন |

এমব্রয়ডারি ব্যবসা শুরু করতে চান? জানুন কীভাবে এগোবেন – ক্লিক করুন এখানে 

২১) পাইকারি বিক্রেতার সাথে : আপনি যদি আপনার পণ্যগুলিকে পাইকারি করতে চান, তবে পাইকারি ব্যবসাদারদের সাথে কথা বলুন। তারা আপনার কাছ থেকে নেবে এবং এগুলিকে দোকানে বিক্রি করবে। মার্জিন পৃথক বিক্রয়ের জন্য কম হবে, কিন্তু আপনি ভলিউম ব্যবসা পাবেন

২২) শপ-ইন-শপ : প্রতিটি বুটিকে প্রোডাক্ট পূর্ণ থাকে না। খালি তাক বা খালি জায়গা রয়েছে এমন বুটিক সন্ধান করুন এবং তাদের বুটিকের ভিতরে একটি ছোট দোকান বা ছোট টেবিল রাখুন। এই টেবিল-এ নিজের প্রোডাক্ট সাজিয়ে রাখুন | আপনাকে বুটিকে কিছু ভাড়া দিতে হবে তবে বুটিকের কাছে আসা গ্রাহকরা আপনার প্রোডাক্ট দেখতে পারবে ও সেখান থেকে বিক্রি হবে |

২৩) মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং : আপনাকে বিক্রি করতে সহায়তা করতে পারে এমন লোকদের নিয়োগ করুন। তাদের প্রতিটি বিক্রয়ের জন্য উত্সাহ দিন এবং তাদেরকে আপনার এলাকার দোকানগুলিতে আপনার পণ্য বিতরণ করতে বলুন।

২৪) Exhibition / প্রদর্শনী : বছরের অনেক সময় প্রদর্শনী হয়। বিশেষত উত্সব এবং শীত মৌসুমে। প্রদর্শনীর সময় আপনার জন্য একটি টেবিল সংরক্ষণ করুন এবং আপনার পণ্যগুলি বিক্রয় করুন। একসাথে অনেকের কাছে আপনার পণ্য উপলব্ধ করার পক্ষে এটি একটি ভাল উপায় |

২৫) ব্যবসা ডিরেক্টরি-তে তালিকা : আপনার স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রতি বছর ব্যবসা ডিরেক্টরি প্রকাশ করে? এই ডিরেক্টরিটি সাধারণত সমস্ত স্থানীয়দের কাছে যায়। এটি অনেক লোকের কাছে পৌঁছানোর একটি ভাল উপায়। একটি সুন্দর ডিজাইন তৈরি করুন যেখানে আপনার প্রোডাক্ট-এর ছবি থাকবে এবং এটি স্থানীয় ডিরেক্টরিতে মুদ্রণ করুন।

২৬) ডিসকাউন্ট / ছাড় : দ্রুত বিক্রয় করার একটি ভাল উপায় হ’ল ছাড় দেওয়া। আপনি 1 + 1 অফার দিতে পারেন বা 10-20% পর্যন্ত ছাড় দিতে পারেন। একবার আপনি কী ছাড় দিতে হবে এবং কোন পণ্যগুলিতে আপনি ছাড় দিতে চান তা ঠিক করার পরে, উপরে বলা পদ্ধতি অনুযায়ী এটি বিভিন্ন উপায়ে প্রচার করুন।

২৭) ফ্যাশন শো: আপনি কি এমন কোনও সোসাইটি বা ক্লাবে থাকেন যেখানে আপনি মহিলাদের ফ্যাশন শো হোস্ট করতে পারেন? আপনার স্থানীয় ক্লাবের মহিলাদেড় আপনার পোশাক পরতে বলুন, এবং মিউসিক -এর সাথে ছোট ফ্যাশন শো করুন। লোককে আকৃষ্ট করার জন্যে এবং আপনার পণ্যগুলিকে প্রচার করার জন্য এটাই এটি একটি ভাল উপায় |

আরো বিশদ জানতে হলে যোগাযোগ করুন ড্রিমজোন স্কুল (Dreamzone School, Ultadanga) এর সাথে | ড্রিমজোন NSDC (ভারত সরকারের অধীনে) অনুমোদিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র |   প্রশিক্ষণের পরে ছাত্র ছাত্রী দের দেওয়া হয় NSDC সার্টিফিকেট |  

কলকাতা, সল্টলেক বা নিকটবর্তী এলাকার ডিজাইনিং কোর্সের জন্য, অথবা ফ্যাশন ডিজাইন কোর্স সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানার জন্য 7044439663 এ আমাদের কাউন্সেলরের সাথে যোগাযোগ করুন অথবা সরাসরি আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে এই পেজ-এ ক্লিক করুন অথবা আমাদের ফেসবুক পেজ দেখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *